ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর বাড্ডার মাদানি সড়কে বেরাইদা ঈদগাহ মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ৪২নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঈদ উপহার বিতরণ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিযোগ করেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে, ষড়যন্ত্র হচ্ছে, চক্রান্ত হচ্ছে দেশে-বিদেশে, আপনাদেরকে আবার ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবার জন্য। আমরা সেটা হতে দেবো না, খুব পরিষ্কার কথা। আপনারা সবাই সজাগ থাকবেন, সতর্ক থাকবেন। ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত শেষ হয়নি। সমস্ত ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে জনগণের সরকার আমরা প্রতিষ্ঠা করবই করব, ইনশাআল্লাহ।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকেই দেবো, এই অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনটা চাই। আমরা এখনো বলছি, আমরা এখনো রাস্তায় নামি না। আমরা সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছি এই ঈদ সামগ্রী নিয়ে, ইফতার সামগ্রী নিয়ে, তাদের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি। কিন্তু আমাদের স্বার্থে যদি, জনগণের স্বার্থে যদি কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করা হয় তাহলে বিএনপি আবার মাঠে নামবে। মাঠে নেমে তারা দাবি আদায় করে নিতে জানে। আমি কথাটা বলছি এজন্য যে, আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, খুব পরিষ্কার কথা। যে যেখানেই থাকেন, সেই ইউনাইটেড স্টেটের থাকেন, ফ্রান্সে থাকেন আর আমেরিকায় থাকেন আর সেখান থেকে মানুষকে উত্তেজিত করবার চেষ্টা করেন, বিভাজন সৃষ্টি করবার চেষ্টা করেন। আমরা মানুষের সঙ্গে আছি, আমরা মানুষের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করছি। সুতরাং আমাদেরকে কেউ বিপথে পরিচালিত করতে পারবে না, বাংলাদেশের মানুষকেও কেউ বিপথে পরিচালিত করতে পারবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে যারা বিএনপি করেছেন, তাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ মানুষকে জেলে যেতে হয়েছে। ছেলেদের নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে, পুলিশ বাড়িতে ঢুকে তাদেরকে না পেয়ে তাদের মা-বাবাকে পর্যন্ত অত্যাচার ও নির্যাতন করেছে। এটা শুধু ঢাকায় না সারা বাংলাদেশে। ৬০ লক্ষ মিথ্যা মামলা দিয়েছে, গায়েবী মামলা দিয়েছে। আমাদের ২০ হাজারের উপরে নেতাকর্মীকে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সরকার হত্যা করেছিল। প্রায় ১৭’শ নেতাকর্মীকে গুম করেছিল। পৃথিবীর গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এধরনের নজীর খুব কম।
এ প্রসঙ্গে ফখরুল আরও বলেন, সেই ধরনের একটা সময় আমরা পার হয়ে এসেছি। আল্লাহ’র কাছে হাজারো শুকরিয়া আদায় করি। আল্লাহ তা’আলার অশেষ রহমতে, আমার কাছে মনে হয়- আল্লাহ তা’আলার যে অলৌকিক যে শক্তি, তার মাধ্যমে তিনি হঠাৎ করেই একদিন হাসিনাকে (শেখ হাসিনা) যেনো গুম করে দিলেন। আল্লাহ তা’আলার নির্দেশে হাসিনা গুম হয়ে গেছেন। যে অত্যাচার ও নির্যাতন তিনি মানুষের উপরে করেছেন, সেখান থেকে আপাতত আমরা মুক্তি পেয়ে একটা মুক্ত জায়গায় আমরা বিরাজ করছি। আল্লাহ তা’আলার কাছে শুকরিয়া আদায় করতে চাই, এই একটা ভয়াবহ মনস্টারের হাত থেকে বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করেছেন।
ভারত-পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য কারোই পক্ষে আমরা নই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিষ্কার কথা। আমরা ভারতের পক্ষেও নই, আমরা পাকিস্তানের পক্ষেও নই, আমরা আমেরিকার পক্ষেও নই, আমরা ইংল্যান্ডের পক্ষেও নই। আমরা বাংলাদেশের পক্ষে। আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব খুব পরিষ্কার করে বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ, আমরা বাংলাদেশি। আপনারা সবাই সজাগ থাকবেন, সর্তক থাকবেন। ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত শেষ হয়নি। সমস্ত ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে জনগণের সরকার আমরা প্রতিষ্ঠা করবই করব, ইনআশাল্লাহ।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে একটা নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই মানুষগুলো ১৫ বছর যুদ্ধ ও লড়াই করেছে। আমাদের ছেলে ছেলেরা শেষ সময়ে তারা ৩৬ দিন তারা সংগ্রাম ও লড়াই করেছে। তাদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ৫ই আগস্ট ভয়াবহ দানবের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি। মুক্তি পেয়েছি ঠিক, এখন তো আমাদের সামনে নতুন স্বপ্ন- খুব অল্প সময়ে মধ্যে, এই যে সরকার এসেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। আমরাই তাকে নিয়ে এসেছি, তার প্রধান দায়িত্ব যেটা- সেটি অতি অল্প সময়ের মধ্যে তিনি সবকিছু গুছিয়ে এনে একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবেন এবং তিনি একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।
তিনি বলেন, আমরা যখনই নির্বাচনের কথা বলতে যাই তখন কিছু কিছু মানুষ আছে, আরে বিএনপি শুধু নির্বাচন নির্বাচন করে। নির্বাচন নির্বাচনই তো করব, কারণ আমাদের সমস্ত সংগ্রামই তো হয়েছে নির্বাচনের জন্য। সেই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আমরা যদি একটা সরকার গঠন করতে পারি তাহলে জনগণের কাছে আমরা যে প্রতিজ্ঞা করেছি, ৩১ দফা। সেই ৩১ দফাকে আমরা বাস্তবায়িত করতে পারব।
বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করছে। দেশের স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত সময়ের ভিতরে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই দেশে পরিপূর্ণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে।
উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তহিরুল ইসলাম তুহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক সম্পাদক এমএ কাইয়ুম, উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. আখতার হোসেন, গাজী রেজাউনুল হোসেন রিয়াজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
খুলনা গেজেট/এএজে